দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মৃত্যুর আগে মানুষ শেষবার কী লিখে রেখে যান, সেটি অনেক সময়ই হয়ে ওঠে একটি জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়। তেলুগু চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা রঙ্গনাথের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটিই ঘটেছিল। আত্মহত্যার আগে হায়দরাবাদের নিজের বাড়ির দেয়ালে কালো মার্কার দিয়ে কয়েকটি শব্দ লিখে গিয়েছিলেন তিনি। সেই বার্তায় পরিবারের প্রতি তার শেষ অনুরোধ ছিল—দীর্ঘদিন ধরে তার দেখাশোনা করা গৃহপরিচারিকা মীনাক্ষীর হাতে যেন তার সব সঞ্চয় তুলে দেওয়া হয়।
২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর, ৬৬ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন রঙ্গনাথ। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় হায়দরাবাদের ওই বাড়ি থেকেই। দেয়ালে লেখা ছিল, ‘এটি তাকে দিও। তাকে কষ্ট দিও না।’ কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার সুনির্দিষ্ট কারণ কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
মৃত্যুর আগে তিনি বন্ধুদের কয়েকজনের কাছেও ‘বিদায়’ বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বি দেবদাস।
চেন্নাইয়ে জন্ম নেওয়া রঙ্গনাথের পুরো নাম ছিল তিরুমালা সুন্দর শ্রী রঙ্গনাথ। অভিনয়জীবন শুরুর আগে তিনি ভারতীয় রেলওয়েতে টিকিট পরীক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে পরিচালক বাপুর ‘বুদ্ধিমন্তুডু’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক হয়। ছবিটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আক্কিনেনি নাগেশ্বর রাও ও বিজয়া নির্মলা।
এরপর চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে তিনি ৪০টির বেশি চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। পরে খলনায়ক ও চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ৪৬ বছরের ক্যারিয়ারে ৩০০টিরও বেশি চলচ্চিত্র এবং অসংখ্য টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করেন তিনি।
‘জমিন্দারুগারি আম্মাই’, ‘আমেরিকা আম্মাই’, ‘পন্থুলাম্মা’, ‘থায়ারাম্মা বঙ্গারাইয়া’, ‘থ্রি দেওয়ারেইন’, ‘মনমধুডু’ ও ‘নিজাম’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।
তবে ব্যক্তিগত জীবনে একের পর এক দুঃখজনক ঘটনা তাকে ভেঙে দেয়। ২০০৯ সালে স্ত্রীকে হারানোর পর দীর্ঘদিন বিষণ্নতা ও একাকীত্বে ভুগছিলেন তিনি। সে সময়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি প্রায়ই আত্মহত্যার কথা বলতেন এবং মানসিক পরামর্শও নিয়েছিলেন। তার মেয়ে নীরজা এ তথ্য জানিয়েছিলেন।
মৃত্যুর দিন দুপুরে গৃহপরিচারিকা মীনাক্ষী তাকে শেষবারের মতো দেখেন। তিনি খাবার তৈরি করে চলে যান। সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি একটি অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানাতে বাড়িতে এলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে নীরজাকে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রঙ্গনাথের মরদেহ উদ্ধার করেন।
রঙ্গনাথের মৃত্যুর সময় তার তিন সন্তান জীবিত ছিলেন। নীরজা হায়দরাবাদের কাছাকাছি থাকলেও এক ছেলে ও আরেক মেয়ে অন্য শহরে বসবাস করতেন। শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর সন্তানরা বাবার শেষ ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে তার সব সঞ্চয় গৃহপরিচারিকা মীনাক্ষীর হাতে তুলে দেন।
/অ